আইজ এহানে তো কাল অন্যহানে থাকতাম, প্রধানমন্ত্রীর জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইলাম

জাতীয় ঢাকা

মাদারীপুরে স্বপ্নের ঠিকানায় ঘরে ঘরে আনন্দ, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোয়া ছাড়া আর কি দিতে পারি? তাঁকে দেওয়ার মতো আমাগো তো আর কিছুই নাই। তিনি যে মমতাময়ী মা। আইজ তাঁর জন্যিই তো আমরা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইলাম। সুন্দর ঘর পাইছি; জমি পাইছি। অহন কইতে পারি আমরা ভূমিহীন না। যা কোনো দিন স্বপ্নেও দেহি নাই। এর থাইক্যা আনন্দের আর কি আছে? এতোদিন আমরা মাইনষের বাড়িতে, অন্যের জমিতে খুপড়ি বানাইয়্যা থাকতাম। আইজ এহানে তো কাল অন্যহানে থাকতাম। কতোজনে কতো কথা কইছে। জাগা খালি কইরা দেও, তোমরা সমাজের জঞ্জাল; তোমাগো জন্যি আমাগো যতো জ্বালা। অহন আর কেউ এ সব কথা কইবো না। অহন মাথা উইচা কইরা কইতে পারুম, আমরা সমাজের জঞ্জাল না, আমরাও মানুষ। নামাজ পইড়্যা আল্লাহর কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্যি দোয়া করি, তিনি যেনো আরো অনেক দিন বাঁইচ্যা থাহেন, আমাগোর মতোন আরো অনেক অসহায় মাইষেরে যেনো ঘরবাড়ি-জমি দিতে পারেন।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এমন কৃতজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশ করলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নে নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পে জমিসহ ঘর পাওয়া বৃদ্ধা আছিয়া বেগম, গৃহবধূ নাজমা বেগম ও বৃদ্ধ আবদুল ওয়াহেদ তালুকদার। তাদের মতো একই অনূভূতি জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া সুবিধাভোগীরা।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পেয়ারপুর আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পারিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে দীর্ঘ লাইনে সারি সারি ঘর। সুন্দর এবং মজবুদ এ সব ঘরের পেছনে-সামনে নানা জাতের সবুজ বনানীর শীতল ছায়া। প্রতিটি ঘরের সামনে যার যার সীমানার খোলা জায়গা। কেউ বাগান করেছে, কেউ করেছে সবজি চাষ, কেউ আবার নিজের ঘরটির সামনে রঙিন তোরণ নির্মাণ করে আরো দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। সীমানার সামনে রাস্তা এবং রাস্তার৷ পাশে সারি সারি গাছ। সবুজ পল্লী পরিবেশ যেনো অ৷ক্সিজেনের ফ্যাক্টরি। রয়েছে সর্বাধুনিক ফ্রি বিদ্যুৎ সুবিধা। প্রকল্পের সামনে দিয়ে বয়ে গেছে লোয়ার কুমার নদী। সাংসারিক কাজের জন্য নদীটি সুবিধাভোগীদের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ। বিশুদ্ধ পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে প্রতি ১০ পরিবারের জন্য স্থাপন করা হয়েছে একটি করে ডিপটিউবয়েল।

প্রতিটি ঘর সাজানো-গোছানো বেশ পরিপাটি। অনেকের ঘরে নিজেরাই টাইলস বসিয়ে আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে। কেউ কেউ ঘরের ভেতর দেওয়ালে রং এবং ডিসটেম্পার ও প্লাস্টিক পেইন্ট করেছে। যারা এ কাজ করেছে তারা কেউ রং মিস্ত্রি, কেউ কেউ টাইলস মিস্ত্রি। তাদের স্ত্রী সন্তানেরা বসবাস করেন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার স্বপ্নের ঠিকানায় আর পুরুষ অভিভাবকরা কাজ করেন ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায়। তারা সপ্তাহে ১/২ দিন এখানে এসে হাট-বাজার করে দিয়ে আবার চলে যান যে যার কাজে। অনেক পরিবার হাঁস-মুরগী ও গবাদী পশু পালন করেন। এসব পরিবারের অভিভাবকরা কেউ ভ্যান চালক, রিকসা চালক, ঠেলাগাড়ি চালক, ইজিবাইক চালক, কৃষি শ্রমিক, দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক। করোনা মহামারীতে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অভাবে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও বাসস্থান থাকায় তারাও খুশি। জমিসহ প্রাপ্ত ঘর এখন অসহায় মানুষগুলোর নিজস্ব সম্পত্তি।

সুবিধাভোগী আবদুল ওয়াহেদ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের এখানকার ঘরগুলো বেশ টেকসই। অন্যান্য জেলার যে সব কথা শুনেছি তাতে আমরা চিন্তায় ছিলাম। সে তুলনায় আমাদের সব ঘর সুন্দর এবং ভালোমানের।’

অন্য এক সুবিধাভোগী গৃহবধূ নাজমা বেগম বলেন, ‘আমি নামাজ পড়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি। তাঁর দানে আল্লাহর রহমতে আজ আমরা সুখে আছি। আল্লাহ যেনো ওনাকে দীর্ঘজীবী করেন। আমি ও আমার স্বামী নাসির ফকির (ভ্যান চালক) আমাদের ঘরখানা সুন্দর করে সাজিয়েছি। ঘরের সামনে গেট বানিয়ে রং করেছি; যাতে আরো সুন্দর দেখা যায়। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়েটা বিয়ে দিয়েছি। ছেলে এবছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে দোয়া করবেন। ছেলেটা ঘরের সামনে সাজিয়েছে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মশিউর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আমরা দু‘দফায় ১৭৫টি ঘর বরাদ্দ পেয়েছি। এর মধ্যে ১০০ ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে প্রতি পারবারে ২শতাংশ জমিসহ ঘরগুলো সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকী ৭৫টি ঘরের নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান আছে। কাজ শেষ হলেই তা হস্তান্তর করা হবে।’

গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার সুন্দর ও মানসম্পন্ন হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, ‘আমরা নিজেদের তত্তাবধানে ঘরগুলো নির্মাণ করেছি। আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার (বাসস্থান) শতভাগ ত্রুটিমুক্ত করার। আমাদের আরো পরিকল্পনা আছে আশ্রয়ন প্রকল্পে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর সস্তানেরা যাতে লেখাপড়া শিখতে পারে সে জন্য প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা। এ জন্য স্থান নির্ধারণ করে মাটি দিয়ে জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদী সংলগ্ন বড় আশ্রয়ন প্রকল্পের সামনে লোয়ার কুমার নদে কয়েকটি ঘাটলা তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। যাতে পানির জন্য অসহায় মানুষগুলো কষ্ট না পায়।’

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, ‘বরাদ্দ অনুযায়ী আমাদের জেলার ঘরগুলো উন্নতমানের। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্তাবধানে ঘরগুলো নির্মাণ করায় এর গুণগতমান ভালো হয়েছে। দেশের কয়েকটি জেলার আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর নির্মাণে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এরপরে সরকার কিছুটা বরাদ্দ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আশা করি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের ঘরগুলো আরো উন্নমানের হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *