টাঙ্গাইলে আনারসের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

কৃষি ও প্রকিৃতি জাতীয় ঢাকা

করোনাকালে আনারসের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় টাঙ্গাইলে আনারস চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। ভালো দাম পেয়ে আনারস চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। আনারস চাষ ও ব্যবসার সাথে জড়িতদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, চাষি এবং পাইকারি ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এইসব জানা গেছে।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা গ্রামের আনারস চাষি ছানোয়ার হোসেন। দীর্ঘ দিন যাবত আনারস চাষ করেন। এ বছরও চার একর জমিতে আনারস চাষ করেছেন। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর আনারসের চাহিদা ও দাম একটু বেশি। এতে তিনি লাভবান হয়েছেন। শুধু ছানোয়ার হোসেন নয়,তার মতন অনেক চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে আনারস চাষ করে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার একর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০ একর বেশি। প্রতি একরে গড়ে ১৩ হাজারটি করে আনারস উৎপাদন হয়। মধুপুর এবং পাশ্ববর্তী উপজেলায় উৎপাদিত আনারস মধুপুরের জলছত্র এবং গারো বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলায় হানি কুইন্ট ও জায়ান্ট জাতের আনারস চাষ হয়। গত বছর ৭ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছিল। এবছর ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে।

আনারস চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি দামে আনারস বিক্রি হচ্ছে। এ বছর মানভেদে প্রতিটি আনারস ২৫ থেকে ৬৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর মানভেদে আনারস বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। করোনাকালে জ্বর ও ঠান্ডা জনিত রোগের কারণে এবার আনারস মানুষ বেশি খাচ্ছেন। তাই এর চাহিদা বেশি বেড়েছে। এ জন্য চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছে আনারস বিক্রি করে।

আনারস ব্যবসায়ী ছানোয়ার হোসেন বলেন, চার একরের আনারসের মধ্যে ইতোমধ্যে ২০ হাজার আনারস বিক্রি করেছি। এখনো প্রায় ৩০ হাজার আনারস জমিতে রয়েছে। এবার অনেক বেশি দামে আনারস বিক্রি করতে পারছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় লাভও অনেক বেশি হচ্ছে।

গারো বাজার হাটের আনারসের পাইকারি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, গত জুন মাস থেকে আনারস উঠতে শুরু করেছে। চলবে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা গারো বাজার এবং জলছত্র হাটে এনে প্রতিদিন আনারস বিক্রি করছেন। পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে কিনে ট্রাক ভরে পাঠাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। অন্যবারের চেয়ে এবার আনারসের চাহিদা অনেক বেশি। তাই হাট দুটো জমজমাট। আনারস চাষি, ক্রেতা, বিক্রেতাসহ এর সাথে জড়িত সবাই খুব খুশি।

অপর ব্যবসায়ী ইয়াসিন মিয়া বলেন, শুধু গারো বাজার হাট থেকেই প্রতিদিন ৫০/৬০ ট্রাক এবং শতাধিক সিএনজি চালিত এবং ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার আনারস যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর আনারসের চাহিদা ও দাম অনেক বেশি।

মধুপুর উপজেলা সদরের মো. হিরু মিয়া বলেন, করোনাকালে কলা বা অন্য সবজি আবাদ করে তেমন লাভবান হওয়া যায়নি। তবে আনারস চাষ করে এবার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে অন্য ফসল আবাদ করে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলেও আনারসের দাম পেয়ে পুষিয়ে যাচ্ছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। আর বাজারে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাই চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আহসানুল বাসার বলেন, প্রকল্পের আওতায় আনারস চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রশিক্ষণে নিরাপদ আনারস চাষের জন্য দুটি ক্লাস নেওয়া হয়। মধুপুরে ছানোয়ার শেখ নামের এক চাষির নেতৃত্বে নিরাপদ আনারস চাষের জন্য সমিতি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *