কালিয়াকৈরে পাবরিয়াচালা-বাজাইল রাস্তার বেহাল দশা

জাতীয় ঢাকা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের পাবরিয়াচালা হতে বাজাইল ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি কালিয়াকৈর ও সখীপুর দুই উপজেলার সংযোগ সড়ক বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় এই দুই উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তাটি অনুপযোগী হয়ে পড়ায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে। দীর্ঘদিন যাবৎ রাস্তার এই অবস্থা নিয়েই অনেক কষ্টে চলাচল করছেন এলাকার জনগণ। মাঝে মাঝে কঠিন দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। এলাকার মানুষ গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও এই রাস্তার কারণে জরুরী সেবা এম্বুলেন্সের সুবিধা নিতে পারে না এতে করে অনেক সময় রোগীদের পড়তে হয় বিপদের মুখে। মূলত এলাকাটি কৃষি নির্ভর এলাকা হওয়ায় শাক সবজি ও উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল এলাকা হতে বাজারে নেওয়ার সময় ব্যাপক দূর্ভোগে পড়তে হয় কয়েক গ্রামের কৃষকদের। পণ্য বোঝাই পরিবহন উল্টে যাওয়ার চিত্রও দেখা যায় প্রায় সময়। এই এলাকার মানুষ এরকম অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়। চায় তাদের রাস্তা সংস্কারের ন্যায্য দাবি।

এলাকাবাসী বলেন, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাবুরিয়াচালা বাজার হইতে বাজাইল ব্রিজ পর্যন্ত ১৮০০ মিটার রাস্তাটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার পর অবশেষে প্রায় চার মাস আগে রাস্তাটির টেন্ডার এবং কার্যাদেশ হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে রাস্তাটির কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হৃদী কনস্ট্রাকশন ,যার কর্ণধার কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদ উজ্জামান এবং চাপাইর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলিম আল রাজিব।

স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, এই অল্প একটু রাস্তার জন্য গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলা এবং টাংগাইল জেলার সখীপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রনিনিয়ত ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। আমরা যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি তারা কেউই এলাকার সাধারণ মানুষদেরকে এই রাস্তা বিষয়ে কোন সদোত্তর দিতে পারছিনা। প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা জনসাধারণের কটুক্তির স্বীকার হচ্ছে, প্রায় প্রতিদিনই এলাকার যুব সমাজের কেউ না কেউ এই রাস্তা নিয়ে ফেসবুকে ট্রল করছে। এ যেন বাতির নিচেই অন্ধকার। আমি কর্তৃপক্ষের নিকট এই রাস্তা দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় ও গ্রীন এগ্রো ফার্ম এর স্বত্বাধিকারী তপন মাহমুদ বলেন, আমাদের এলাকা একটি কৃষি নির্ভরশীল এলাকা, আমাদের গ্রাম থেকে বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এই রাস্তার কারণে পরিবহনের একটি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় পণ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই রাস্তায় আমাদের দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় অনেক সময় পরিবহন উল্টে যায়। এই রাস্তাটি সচল হলে কালিয়াকৈর ও টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার সাথে সুন্দর একটি যোগাযোগের মাধ্যম হবে। আর আমাদের দুই উপজেলার বাণিজ্যিক সম্পর্কটা আরো গভীর হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। আমি, যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট রাস্তাটির দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে হৃদী কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বিষয়টি আমরা জানি ওই এলাকার মানুষ রাস্তাটির জন্য চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছে। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটির কাজ শুরু করব।
কত দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবেন এরকম প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই চলতি মাসের মধ্যেই শুরু করব।

কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিসার বিপ্লব পাল বলেন, ওই রাস্তার কাজটি চার মাস আগে টেন্ডার হয়েছে ও কিছুদিন আগে কার্যাদেশও হয়েছে। কিন্তু বর্ষা ও বৃষ্টির কারণে কাজটি এতদিন করা হয়নি এখন আমরা দ্রুতই কাজটি শুরু করার আদেশ দেব। তিনি আরো বলেন, বর্ষার মৌসুমে রাস্তার বক্স কাটলে মানুষের চলাফেরা আরো সমস্যা হয় তাই এতদিন কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *