মোত্তাহিদ ইসলাম মারজান, উলিপুর (কুড়িগ্রাম):
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় রাস্তা ভুলে আসা শিশু সুমাইয়া (৭) বর্তমান উলিপুর থানার নারী ও শিশুর তত্বাবধানে থেকে এখন আর বাসা ফিরতে চায় না।
বৃহস্পতিবার (০১জুলাই) সন্ধায় উলিপুর কৃষি ব্যাংকের নিচে কান্নারত অবস্থায় দেখা মিলে। স্থানীয় লোকজন তার নাম ঠিকানা জানতে চাইলে সে তার নাম সুমাইয়া ওরফে রুমি (৭) বাসা পাত্রখাতা,ভাইয়ের নাম কামরুল,বাবার নাম এরশাদ বলে।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির স্হানীয় লোকজনের কাছ থেকে খোঁজ পেয়ে বাচ্চাটিকে থানায় নিয়ে এসে নারী ও শিশুর তত্বাবধানে রাখার নির্দেশ করেন। ওসি ইমতিয়াজ কবির ফেকবুক সহ বিভিন্ন সোস্যাল মাধ্যমে মেয়েটির ছবি নাম ঠিকানা প্রেরন করে সকলের কাছে তার পরিবার কে খুঁজে পেতে সহযোগিতা চান। অবশেষে তার পরিবারের খোঁজ পাওয়া গেলে শিশু সুমাইয়া এখন আর বাড়ি ফিরতে চান না।
শুক্রবার বিকালে চিলমারী থানায় শিশুটির ব্যাপারে খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায় শিশুটির বাসা চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়ন পাত্রখাতা গ্রামে তার বাড়ি। পিতা এরশাদুল মাতা কাজলী ও ছোট ভাই কামরুল (৫) সাত বছর বয়সে মেয়েটি তার বাসা, বাবার নাম,ছোট ভাই আর চাচার নাম বলতে পারতো। গত নয় মাস আগে মেয়েটির মা বাবা আলাদা হয়ে যাওয়ায়, মেয়েটি রয়ে যায় তার বাবার কাছে আর ছোট ভাই চলে যায় মায়ের কাছে। ছোট ভাই কামরুল কে নিয়ে মা ঢাকায় চলে যান ও পোশাক শ্রমিকের কারখানায় কাজ করেন। অন্যদিকে মেয়েকে বাবা এরশাদুল হক তার ছোট ভাই দিনমজুর মমিনুলের কাছে রেখে ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে তিনি রিক্সা চালানো শুরু করেন।
সুমাইয়া প্রতিবেদক সহ সকলকে জানান সে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছে। মেয়েটি বাবা মায়ের আলাদা হওয়ার পর এমন স্নেহ যত্ন কখনো পায় নি অবশেষে থানায় প্রকৃত ভালোবাসা পেয়ে বাসা ফিরতে চায় না এখানেই থেকে যেতে চায়।
ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান লকডাউন চলাকালিন সময়ে তার বাবা, মা ফিরতে না পারায় মেয়েটিকে তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে প্রকৃত অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

