নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম:
দখলদারিত্ব আর প্রভাব বিস্তারের ফলে ক্রমাগত বিলীন হয়ে যাচ্ছে হাজারো পুরনো ঐতিহ্য। সম্প্রতি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারী গ্রামের মরহুম আব্দুস সাত্তার আলীর ছেলে ও উত্তর কুটিচন্দ্রখানা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম হিরু প্রভাব খাটিয়ে গংগারহাট বাজার মসজিদের পশ্চিমে রাস্তার ধারে থাকা পানির কুয়াটি নিশ্চিহ্ন করে বেদখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন।
সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে দখলকারীর নিজ অর্থায়নে সকল প্রকার স্থাপনা সরানোর নির্দেশ প্রদান করে একটি নোটিশও প্রেরণ করেছে ইউনিয়ন ভূমি অফিস। কাশিপুর ইউনিয়ন এর উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কূয়াটি ভেঙে বেশ কিছু ইট তুলে নিয়েছেন তিনি। জায়গাটা টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখে মাটি ভরাট করে কূয়াটি নিশ্চিহ্ন করে সেখানে ইটের তৈরি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। বাজারের সৌন্দর্যকে আঁকড়ে ধরে থাকা সরকারি এই কূয়াটি নিশ্চিহ্ন করে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করায় অনেকেরই মনে ক্ষোভ। তবে দোকান নির্মাণকারী প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খোলার সাহস পাননি কেউই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকেই জানান, একসময় এই কূয়ার পানি দিয়েই তৃষ্ণা মেটাত গোটা গ্রাম সহ আশেপাশের এলাকার লোকজন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ এগোতে থাকলে ধীরে ধীরে কূয়ার ব্যবহার কমতে থাকে। এক পর্যায়ে এসে ব্যবহার সম্পূর্ণ রূপেই বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবহার বন্ধ হলেও পুরনো ঐতিহ্য হিসেবে শোভা বর্ধন করে রেখেছে বাজারের। বেলা যায় এছাড়াও সেখানে সাধারণ মানুষ উন্মুক্ত চলাফেরা ও বাইসাইকেল মোটরসাইকেল রাখার জন্য জায়গাটি ব্যবহার করে থাকেন। জায়গাটি বেদখল হওয়ায় অনেকেরই অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।

সেখানে দেখা হয় সিরাজুল ইসলামের ছোটভাই আজিজুল ইসলাম এর সাথে। তিনি সেখানে কূয়া থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যখন কূয়ায় প্রয়োজন ছিল, তখন সবাই ব্যবহার করেছিল। এখন তো আর কুয়ার কোনো প্রয়োজন নাই। তাই এখানে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। কূয়াটি সরকারি কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন এই জায়গাগুলো তো সব আমাদেরই। বাপ-দাদার আমল থেকেই সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ভোগ করে আসছি।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি সচিব আব্দুল জলিল বলেন, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য দেয়া সরকারি জমি এক নম্বর খাস। এসবের কখনো লিজ হয়না। দখলদারিত্ব আর প্রভাব বিস্তারের ফলে ক্রমাগত বিলীন হয়ে যাচ্ছে হাজারো পুরনো ঐতিহ্য। এরকম অনেক রকমের ঐতিহ্য আমরা বুঝে না বুঝে ধ্বংস করে ফেলি। প্রাচীন ঐতিহ্যগুলোকে সংস্কারপূর্বক সংরক্ষণে যথাথথ কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা জরুরী।
এব্যপারে কাশিপুর ইউনিয়ন এর উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছাদেকুর রহমান বলেন, গংগারহাট বাজারের কূয়াটি সরকারি। জমিটাও সরকারের অর্পিত সম্পত্তি। কূয়াটি ভেঙ্গে পাকা দোকানঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। দখলকারীদেরকে তাদের নিজ অর্থায়নে সকল প্রকার স্থাপনা সরাতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখল মুক্ত করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

