কুড়িগ্রামে গঙ্গাধর ও ব্রহ্মপুত্র নদী ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

কৃষি ও প্রকিৃতি জাতীয় রংপুর

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চারিদিকে নদী বেষ্টিত ও সীমান্ত ঘেঁষা, আয়তন, জনসংখ্যায় দরিদ্রতার হার সবচেয়ে বেশি দ্বীপচর নারায়নপুর ইউনিয়নের মানুষ প্রতিবছর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে শত শত পরিবার। এই পরিবারগুলো তাৎক্ষণিক সহায়তা ও স্থায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম না পাওয়ায় অধিকাংশ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

জানা গেছে, দরিদ্রতার দিক দিয়ে দেশের শীর্ষ অবস্থানে কুড়িগ্রাম জেলা। সরকারের সবশেষ তথ্য মতে, দারিদ্র্যের হার ৭০দশমিক ৮ভাগ। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে নদী ভাঙন। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও জিঞ্জিরাম-এই পাঁচ আন্তঃনদ-নদীসহ মোট ১৬নদ-নদীর প্রতিটিই কমবেশি ভাঙন প্রবণ। শুধু বর্ষায় নয়, শুষ্ক মৌসুমেও ভাঙন দেখা দেয় এসব নদ নদীতে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই বর্ষা মৌসুমে গঙ্গাধর ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের কবলে পড়েছে নাগেশ্বরী উপজেলার দ্বীপচর নারায়নপুর ইউনিয়ন।

২০০১সালের শুমারীর তথ্যমতে নারায়নপুর ইউনিয়নের আয়তন ১৩হাজার ৫৭৫একর, আবাদী-অনাবাদি জমি আবাদী ৫হাজার ১৩৫একর, অনাবাদী ৭০১একর এবং বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ৬২হাজার। নারায়নপুর ইউনিয়ন একভাগ স্থল আর দুইভাগ গঙ্গাধর, দুধকুমর, ব্রহ্মপুত্রসহ ৮টি শাখা নদী ঘেরা জলস্থল। বালারহাট, চৌদ্দঘুড়ি, চরঝাউকুটি, চর পাখিউড়া, মাঝিয়ালী, কন্যামতী ও অষ্টআশী গ্রাম গঙ্গাধর ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ঘর-বাড়ি ও জমি-জমা। চলতি বছর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত এসব গ্রামে সম্প্রতি তিন শতাধিক পরিবার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পরিবারগুলো জেগে ওঠা নতুন চরে কোনোরকমে মাথা গুঁজে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এদিকে হুমকির সম্মুখীন বালারহাট, কন্যামতি, চৌদ্দঘুড়ি বাজার, বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি, হাইস্কুল, প্রাইমারীসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি ও জমিজমা। তবে ভাঙন প্রতিরোধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। জরুরিভাবে ভাঙন রোধ না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে নারায়নপুর ইউনিয়ন। অত্র ইউনিয়নের ২৯টি চরে শতকরা প্রায় ৭০শতাংশ মানুষ অশিক্ষিত হতদরিদ্র ও কর্মহীন। হতদরিদ্র, শ্রমজীবি, দিন মুজুর মানুষগুলো কর্ম না থাকায় দূর্ভোগের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে।

ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন জানান, কয়েক বছর ধরে নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫টি গ্রামে গঙ্গাধর ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরে তিন শতাধিক মানুষ ঘর-বাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ভাঙনের শঙ্কায় পড়েছে বালারহাট, কন্যামতি, চৌদ্দঘুড়ি বাজার, বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি, হাইস্কুল, প্রাইমারী ও অসংখ্য ঘরবাড়ি, জমিজমাসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মজিবর রহমান বলেন, নারায়নপুর ইউনিয়ন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপচরে অবস্থিত ও চরাঞ্চল। নদী ভাঙনে ইতিমধ্যে বালাহাট এলাকার আকবর হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। কন্যামতি বাজার বিলীনের পথে। পাশাপাশি চৌদ্দঘুড়ী এলাকা ভাঙনের সম্মুখীন। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারের কাছে আবেদন করছি নারায়নপুর ইউনিয়নে যেন নদী শাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান বলেন, নাগেশ্বরী উপজেলা নদী বেষ্টিত ও নদী ভাঙনে প্রতিবছর অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব। ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সকলকে আহব্বান জানাচ্ছি।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর আহমেদ মাছুম বলেন, এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নদী ভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোকে স্থায়ী পুনর্বাসনে সহযোগিতা করতে চেষ্টা চলছে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *