ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মৃত্যুর নয় দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য সীমা আক্তার (১৩) নামের এক কিশোরীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। সীমা উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাট গোপালপুর (খোচাবাড়ী) গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে। তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গত ২০ এপ্রিল (বুধবার) সকালে সীমার বড় ভাই জুয়েল এর সাথে মোবাইল ও টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায় জুয়েল সীমার গলা টিপে ধরলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় সীমার লাশ দাফন করা হয়। কিন্তু এটি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ এনে সীমার বাবা গত ২২ এপ্রিল একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কবর থেকে লাশ তোলার অনুমতি দেয়।
শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাইরুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েমের উপস্থিতিতে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ কবর থেকে সীমার লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানার উপপরিদর্শক সৈয়দ নাদিম মিয়া বলেন, সীমার বাবা আব্দুল হামিদ গত ২২ এপ্রিল একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে লাশটির ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে পুলিশ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কবর থেকে লাশ তোলার নির্দেশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, সীমার বাবার অভিযোগের ভীত্তিতে ঘটনার কয়েকদিন পর অভিযুক্ত জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে উঠিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে।

