সড়ক সংস্কারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিল কুবি শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম জাতীয় শিক্ষা ও ক্যাম্পাস

কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) সংলগ্ন সড়ক সংস্কারের দাবিতে গাছ ও টায়ার পুড়িয়ে ফের সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে আগামীকালকের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরুর আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা।

শনিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনের সড়ক অবরোধ করা হয়। আল্টিমেটামের ১০দিন পার হলেও সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় সড়ক অবরোধ করার কথা জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এ সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয় গত বছরের আগস্ট মাসে। কর্তৃপক্ষের দায়সারা কার্যক্রমের কারণে খোঁড়াখুঁড়ির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে সংস্কার কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পিকনিক স্পট থাকায় এ রাস্তা দিয়ে সবসময়ই যানবাহন চলাচল করে। ফলে রাস্তার ধুলাবালির কারণে মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন হলের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া রাস্তার আশেপাশের খাবারের হোটেল ও মুদি দোকান ধুলোবালির কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। এ সড়কের দ্রুত শেষ করার দাবিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৪ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও এলজিইডির আশ্বাসে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু আল্টিমেটামের সময় পার হলেও সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় ফের সড়ক অবরোধ করে সংস্কারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন বাবর বলেন, ‘মার্চের শুরুতে রাস্তা সংস্কার করার আশ্বাস দিলেও এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটা খুঁড়ে বেহাল অবস্থা করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। যার কারণে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, বিষয়টা পুলিশের না। এটি এলজিইডি আর ঠিকাদারের। মাঝখানে পুলিশ আর শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছে৷ তবে টাকার অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাকি কাজ শেষ করতে পারছে না বলে আমি জেনেছি। তারপরও আমরা যতটুকু করার ততটুকু করে যাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের বিষয়টা আমি জেনেছি। তবে রাস্তারটার ঠিকাদার ১০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে বলেছিল কিন্তু এখনো করেনি। তাছাড়া এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন কোনো বিষয় না। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কিছু জানায়নি৷ জানালে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে দেখবো৷’

এদিকে কবে নাগাদ কাজ শুরু করবে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার কিছু বিল এখনো আসেনি এজন্য কাজ আটকে আছে। ১০দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা ছিল কিন্তু পারিনি। আমি গতকালকে ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি আজকে সংস্কার সামগ্রী পাঠানোর কথা ছিল। কালকের মধ্যে অবশ্যই কাজ শুরু করবো। আমি শিক্ষার্থীদের কথা দিচ্ছি কাল রাত থেকে আমি অবশ্যই কাজ শুরু করব।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ‘কাজ তো শুরু হওয়ার কথা। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানাচ্ছি এবং দায়িত্বরত সকলের সাথে কথা বলব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *