কুড়িগ্রামের উলিপুরে পারিবারিক জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের একটি বানোয়াট মিথ্যা মামলার ২য় দফায় তদন্ত প্রতিবেদনে অদৃশ্য কারণ বশত তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মিলন মিয়া আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ৪৪৮ ও ৩৮৫ দুটি ধারা সংযুক্ত করায় চরম বিপাকে পড়েছেন বিবাদী আজিজুল ইসলাম মুকুল গং। পালিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নুতন অনন্তপুর ব্যাপারীপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলাম মুকুল সহ নারী পুরুষ মিলিয়ে আরও ১০ জনকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন বিবাদী আজিজুল ইসলামের ভাগিনা গোলাম সারোয়ার মোরছালিনের স্ত্রী নুরজাহান মোরছালিন সীমা। মামলা নম্বর ৩/২১ উলি:।
আদালত মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন উলিপুর থানাকে জমা দানের নির্দেশ দিলে এস আই মিলন মিয়া দীর্ঘ তদন্ত শেষে আজিজুল ইসলাম মুকুল, মহিউল ইসলাম সাজু, নাসিম আল আজাদ সুজয়, শাফায়েতউল ইসলাম সজীব, নুরে হাসান সুবর্ণ, নুরুল আম্বিয়া সুপ্রিয়, মো: শামছুল ইসলাম, মোছা: রত্না বেগম ওরফে সাহরা, মো: লিটন মিয়া, নাজমা ইসলাম ও মোছা: শরিফা বেগমদের বিরুদ্ধে পিসি ৩২৩/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে মর্মে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ফলে মিথ্যে মামলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে না পেরে বাদিনী নুরজাহান মোরছালিনা ক্ষিপ্ত হয়ে দাখিলকৃত ওই তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজি পিটিশন দেন।
পরে ওই একই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মিলন মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবৈধ পন্থায় ম্যানেজ করে তদন্ত প্রতিবেদন পাল্টিয়ে ফেলেন। এরই ধারাবাহিকতায় এস. আই মিলন মিয়া অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে মর্মে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে পেনাল কোড ৪৪৮ ও ৩৮৫ ধারা দু’টি সংযোজন করে আবেদন জমা দেন।
ফলে অনধিকার প্রবেশ ও চাঁদা দাবি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে ওই ধারা দুটি অন্তভূক্ত করার জন্য বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন জমা দেওয়ায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিরপরাধ, অবৈধ টাকার কাছে হেরে যাওয়া কয়েকটি পরিবার।
তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই মিলন মিয়ার এহেন অসংতিপুর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ায় ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলাম মুকুল গংরা সুষ্ঠু তদন্তের আশায় কুড়িগ্রাম জেলাপ্রশাসক ও পুলিশসুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে সুষ্ঠু বিচারের আশায় আবেদন দেন।
অভিযোগে জানা গেছে, আজিজুল ইসলাম মুকুলের এক ভাইয়ের বসতবাড়ির অংশসহ দলিল মুলে ক্রয় করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী সারোয়ার মোরছালিন টিটুলের স্ত্রী নুরজাহান মোরছালিন সীমা। কিন্তু ক্রয়কৃত অংশের চেয়ে বেশি অংশ দাবী করায় আজিজুল ইসলাম মুকুল গংদের সাথে বিরোধ তৈরী হয়। এ ব্যাপারে ৯৪/২০ ও ৭৪/২০ দুটি মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজিজুল ইসলাম মুকুল গংদের বিরুদ্ধে নুরজাহান মোরছালিন সীমা আদালতে ৩২৩/৫০৬(২)/১১৪/৩৪/৪৪৮/৩৮৫ ধারায় মামলা করেন। মামলা নং – ৩/২১উলি। উক্ত মামলা উলিপুর থানার এস.আই মিলন মিয়া তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে অনধিকার প্রবেশ ও চাঁদাবাজির সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে ৪৪৮/৩৮৫ ধারা দুটি বাদ দিয়ে ৩২৩/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে বাদিনী ওই প্রতিবেদনের ওপর নারাজি পিটিশন দিলে একই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ভুল স্বীকার করে ৪৪৮/৩৮৫ ধারা সংযোজনের আবেদন দেন।
এ ব্যাপারে বিবাদী আজিজুল ইসলাম মুকুল বলেন,তদন্ত প্রতিবেদক ৩/২১উলি প্রতিবেদন কোথায় তদন্ত করে লিখেছেন জানিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের গর্ভে কোথাও চাঁদার উল্লেখ নাই অথচ নারাজির প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই মিলন মিয়া ভুল স্বীকার করে চাঁদার কথা প্রতিষ্ঠিত করলেন। বিষয়টি বোধগম্যের বাহিরে। এখনতো আমরা জামিন ও নিতে পারছি না।
একই মামলায় প্রতিবেদন দু’রকম কেন এ প্রশ্ন করলে চমকে ওঠেন তদন্ত প্রতিবেদক এসআই মিলন মিয়া। নিউজ না করার শর্তে তিনি জানান,৩/২১উলি মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে বাদিনী নারাজি পিটিশন করলে আমি আদালতে ভুল স্বীকার করে অনধিকার প্রবেশ ও চাঁদাবাজি ৪৪৮/৩৮৫ ধারা সংযোজনের আবেদন জমা দেন।
এব্যাপারে, মামলার বাদিনী নুরজাহান মোরছালিন সীমাকে মোবাইলে একাধিকবার কল এবং ক্ষুদেবার্তা প্রদান করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

