1. admin@bangonews24.com : admin :
  2. bangonews024@gmail.com : bangonews24 :
  3. mahfuzlh07@gmail.com : mahfuz :
  4. nurnobifulkuri@gmail.com : nurnobifulkuri : Nurnobi Sarker
  5. prodip2354@gmail.com : tushar :
  6. vividwadud@gmail.com : vivid wadud :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামের ১৬ নদ-নদীর চর-দ্বীপচরে এখন সাদা কাশফুলের মেলা 

বঙ্গনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম:
চলছে শরৎকাল। কুড়িগ্রামের চারদিকে সাদা মেঘের ভেলার মত ভেসে উঠেছে সাদা কাশফুলের মেলা। কাশফুল দিয়ে ছড়িয়ে আছে জেলার বিভিন্ন চর-দ্বীপচর গুলো। ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় জেগে ওঠা প্রায় ৪৫০ টি বালুর চর-দ্বীপচরে দৃশ্যমান হচ্ছে বিস্তৃত সাদা কাশফুলের সমারোহ। জেলায় কোথাও তেমন বিনোদন স্পট না থাকায় প্রকৃতিপ্রেমী তরুন-তরুনী সহ সব স্তরের মানুষ ছুটছে কাশবনের দিকে। কাশবন শুধু চরাঞ্চলের  সৌন্দর্যই নয়, কাশফুল বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চরাঞ্চল বাসীরা। 

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদ-নদী গুলোর অববাহিকার চর-দ্বীপচর গুলোতে প্রকৃতির ঐশ্বর্য আর অপূর্ব শোভায় সুশোভিত কারুকার্যময় কাশফুলের বাগান। প্রকৃতির আপন খেয়ালে শরৎকালে আপনা আপনি কাশফুল ফুটেছে চরাঞ্চলে। আকাশে নীল মেঘের পাহাড় আর কাশ ফুলের ছোয়া নিতে চাইলে যেতে হবে চর-দ্বীপচর গুলোতে। প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্য যেন ফুটে উঠেছে এখানে। মাথার উপর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা খেলা আর নিচে অপূর্ব শোভায় কাশফুলের মেলা। ধরলা, ব্রক্ষপুত্র, তিস্তা, দুধকুমর, ফুলকুমর, নীলকমল নদ-নদীর বিভিন্ন চর-দ্বীপচরে অথবা নৌকায় ভ্রমনে যাওয়ার পথে আপনি দেখতে পাবেন কাশফুলের সৌন্দর্য্যময় দৃশ্য। জেলা শহর থেকে বিভিন্ন দ্বীপচরে কাশফুলের বাগান যেতে কোথাও দুই ঘন্টা আবার কোথাও তিন ঘন্টা সময় লাগে। নৌকা ছাড়া যাবার আর কোন পথ নেই। প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে নৌকা দিয়ে যাবার সময় চোখ জুড়ানো সারি সারি কাশফুল।

কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ধরলার অববাহিকায়, যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায়, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লারহাট, ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা কবলিত চারটি ইউনিয়ন ও শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর উত্তরের বিস্তৃত চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে সাদা মেঘের ভেলার মত ভাসছে কাশফুলের সমারোহ। চর-দ্বীপচর গুলোর বালুর আস্তর ঢেকে গেছে সাদা কাশফুলে। প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগের মধ্য দিয়ে যে কারও মন হারিয়ে যেতে পারে। একটু অপেক্ষা করলে হৃদয়ে নাড়া দেয় বাতাসে দোল খাওয়া ঢেউ খেলানো কাশফুল বাগানের বিমোহিতকর সৌন্দর্য্য। সন্ধ্যার আগে যখন সূর্যের লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে, তখন নদ-নদীর কোলজুড়ে আরো রোমাঞ্চকর মুহূর্ত সৃষ্টি করে সাদা কাশফুলের অপূর্ব দৃশ্য।

কিছু পর্যটক এখানে আসার প্রধান উদ্দেশ্য কাশফুলের বাগানে এসে নদীর প্রান্তে দাঁড়িয়ে সূযোর্দয় এবং সূর্যাস্ত দেখা, নিবিড় শ্যামলিয়া, চোখ জুড়ানো নৈসর্গ, আকাশে মেঘমালার উড়ে চলা, চরের মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবন প্রণালী, এখানকার মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এখানকার মানুষ সহজ সরল শান্তিপ্রিয়, মৈত্রীভাবাপন্ন, ধর্মসহিষ্ণু ও সাংস্কৃতিক মনোভাব সম্পর্কে জানা। 

যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গফুর জানান, প্রতিবছর বন্যা পরবর্তীতে নদ-নদীর অববাহিকায়ন বালু মাটি জমিয়ে সেখানেই জন্ম নেয় কাশ। কোন প্রকার ব্যয় ছাড়াই কাশবন বিক্রি করে নিজেদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন চর-দ্বীপচরের অনেক মানুষ। এক বিঘা জমির কাশের বাগান ১৪-১৫ হাজার টাকা বিক্রি করে এখাানকার মানুষরা। 

কুড়িগ্রাম সদর ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চর গ্রামের নুর হোসেন জানান, আমার ১০ বিঘা জমিতে কাশ হয়েছে। এ কাশগাছ খুলনা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন নিয়ে গিয়ে তারা পানের বরোজ দেয়। অনেকে আবার কিনে ঘরের ছাউনি ও ঘরের বেড়া দেয়। কুড়িগ্রামে আগে বেশীভাগ ছনের ঘর ছিল, কিন্তু এখন শহর, গ্রাম উন্নয়ন হয়েছে। তাই কাশগাছ বাইরের লোকের কাছে বিক্রি করি। কাশ আবাদ করা লাগে না।  বন্যার পর প্রতিবছর এমনিতেই জমিতে হয়। আর দুই- –তিন মাস পর আমরা ১০ বিঘা জমির কাশ তিন থেকে চার লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবো। এই টাকা দিয়েই আমাদের সংসার খরচ চলবে, ছেলে মেয়ের জন্য পড়াশোনার খরচ করবো। আমাদের চরে একমাত্র বিনা পয়সায় এই আবাদটাই হয়ে থাকে।

কাঁঠালবাড়ী থেকে কাশবন দেখতে আসা প্রকৃতি প্রেমিক রাসেদ মিয়া, আবদুর রাজ্জাক সহ আরো অনেকে জানান, আমাদের বাড়ি এখান থেকে ২০ কি মি দূরে। কাশফুলের বাগান দেখতে এসেছি। এত সুন্দর কাশফুলের বাগান দেখে আমাদের খুব ভালো লেগেছে।দু’চোখ জুড়িয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দীন জানান, ঋতু পরিক্রমায় এখন শরৎকাল। আর সেই শরৎকালের বৈশিষ্ট্যই কাশফুল। কাশফুলের আদিনিবাস  রোমানিয়ায়। এটি বাংলাদেশেরও একটি পরিচিতি উদ্ভিদ। আমাদের কুড়িগ্রামে এটি সবার কাছে অতিপরিচিত। কাশফুলের ইংরেজি নাম ”ক্যাটকিন”। কাশফুলে রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার। কাশ সাধারণত শুকিয়ে খর হিসেবে গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  তাছাড়াও গ্রামান্তরে ঘরের ছাউনি, বেড়া নির্মান করে থাকে। পানের ছাউনি ও বরোজেও ব্যবহার হয়ে থাকে। 

শেয়ার করুন




এই বিভাগের আরও খবর










আপনার জন্য নির্বাচিত




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
ঢাকা,বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বঙ্গ নিউজ ২৪.কম