ফুলবাড়ীতে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অপর শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

অপরাধ জাতীয় রংপুর হোম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অপর এক সহকারী শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১০ আগস্ট) উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়লই মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে ওই দিনই বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।

অভিযোগে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকাল নয়টায় বিদ্যালয়ে যান সহকারী শিক্ষিকা মাছুমা খাতুন। গিয়ে দেখেন সহকারী শিক্ষিকা মিলি খাতুন অপর দুই শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা ও সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করছেন। এক পর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও শুরু করে দেন। ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও সেখানে কিছু অভিভাবকও জড়ো হয়ে যায়। এ সময় সহকারী শিক্ষিকা মিলি খাতুনকে বাক বিতন্ডা থামানোর জন্য অনুরোধ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মাছুমা খাতুন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষিকা মিলি খাতুন তার পায়ের স্যান্ডেল দিয়ে মাছুমা খাতুনকে মারপিট করা শুরু করেন। মারপিটের একপর্যায়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মাছুমা খাতুন।

অভিযোগে আরো জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান বকুল উপস্থিত থাকার পরও তিনি ঘটনার বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছিলেন। পরে অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক মিলে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনার অবতরণ হওয়ায় তার মানহানি সহ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে বিদ্যালয় এর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হওয়ায় সবসময় অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর খবরদারি নজরদারি করেন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে এরকম দুর্ব্যবহার করে আসছেন তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা মিলি খাতুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বামী মুকুল মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান নিজেরদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে। আমরা অভিভাবকদের সাথে বসে মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।

প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান বকুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তার বিদ্যালয়ে এরকম একটি ঘটনা ঘটায় তিনি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবগত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আগামী শনিবার বিদ্যালয়ে মিটিং ডাকা হয়েছে।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল হক খন্দকার বলেন, ঘটনাটি শোনার পর ওই তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। যেখানে শিক্ষার শুরু সেখানে এরকম অপ্রীতিকর ঘটনা আশা করা যায় না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও আগামী শনিবার ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডাক দেয়া হয়েছে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহসীন আলী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *