নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার পূর্বে ভারতের সিমান্ত, উত্তরে ব্রক্ষ্মপুত্র নদ, পঁচিমেও ব্রক্ষ্মপুত্র নদ ঘেষা হওয়ায় ঘন কুয়াশা সহ শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ভোর বেলা আলো ফুটলেও কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে থাকে চারপাশ। একটু বাতাস বইলেই কেঁপে উঠে শরীর। আর শীতের আগমনে লেপ-তোষক তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা। কেউবা আবার পুরাতন লেপ-তোষক ভালো ভাবে মেরামত করে নিচ্ছে।
শীতের আগমনীতে কদর বাড়ছে লেপ তোষকের। ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কারিগর ও দোকানদাররা। শীত মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসাবে লেপ-তোষক বানানোর হিড়িক পরেছে দোকান গুলোতে। বছরে এসময় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। সারা বছর অলস সময় পার করলেও শীতের এ সময় টা তাদের ব্যস্ততা অনেকটা বেড়ে যায়। ভোর বেলা থেকে রাত পর্যন্ত বিরামবিহীন ভাবে চলে লেপ তোষক তৈরির কাজ। শীতের ৪ মাস ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। উপজেলার ছোট বড় হাটবাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায় জাজিম, লেপ, তোষক বালিশ তৈরি ও বিক্রির কাজে অনেক কারিগর ও ব্যবসায়ী প্রচুর পরিমাণ ব্যস্ত সময় পার করছে।
রৌমারী উপজেলার গাছ বাড়ি বাজারের লেপ তোষক তৈরির কারিগর লুৎফর আলী, ও জুলহাশ মিয়া জানান, সময় মতো লেপ-তোষক ডেলিভারি দেয়ার জন্য তারা ব্যস্ত। সারা বছরের মধ্যে এই শীতের মৌসুমেই তারা কাজের বেশি অর্ডার পান। ফলে এ সময় তাদের কাজ বেশি করতে হয়। কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ এই ৪ মাস শুধু লেপ তোষক তৈরির কাজ চলে, আর এই ৪ মাসের আয় দিয়েই আমাদের চলতে হয় পুরো বছর।
তারা আরও জানান, আমাদের একটি লেপ তৈরিতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। এভাবে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ টি লেপ-তোষক তৈরি করতে পারি। ১কটি করে লেপ বা তোষক তৈরি করে দিলে দোকানদারের কাছ থেকে আমরা পাচ্ছি ২ শত করে টাকা। এখন দিনে আমরা ৮শ থেকে ১হাজার ১২শ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকি, যা অন্যমাসে হয়না। আবার কাজ বেশি হলে বাড়তি লোক খোঁজ করতে হয়।
লেপ তোষকের দামের কথা জিজ্ঞেস করলে দাঁতভাঙ্গা বাজারের দোকান দার আব্দুল মোতালেব বলেন, কাপড়ের মান বুঝে লেপ-তোষকের দাম নির্ধারণ করা হয়। ৪-৫ হাত লেপের দাম পড়ছে ১৩০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। আর তোষক তৈরিতে দাম পড়ছে ৯শ থেকে ১৫০০ টাকা মতো। তবে এবার লেপের কাপড়ের ও তুলার দাম একটু বেশি। কালার তুলা প্রতিকেজি ৪০টাকা, মিশালী তুলা ২৫ টাকা, সিম্পল তুলা ৮০ টাকা, শিমুল তুলা ৪৫০ টাকা ও সাদা তুলা ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবে মাত্র একটু, একটু শীত পড়ছে শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে লেপ-তোষক তৈরি ও বিক্রি আরও বাড়বে এমনটিই প্রত্যাশা সকল ব্যবসায়ীদের।

