সকালে পরিচালক বিকেলে ডাক্তার

অপরাধ জাতীয় ঢাকা

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল রোড গোলচত্বরে অসংখ্য অনুমোদনহীণ প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে উঠেছে।

এর মধ্যে হেলথ্ কেয়ার নামের হসপিটালটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেই কোন বৈধ কাগজ পত্র, নেই কোন নিয়োগ প্রাপ্ত ডাক্তার, সার্টিফিকেটধারী নেই কোন টেকনিশিয়ান, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত,দক্ষ নার্স না থাকলেও চলছে রমরমা চিকিৎসা বানিজ্য৷ হসপিটালটির পরিচালক(মালিক) নামধারী ফিরোজ মাহমুদ সকালে বলে আমি এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আর বিকেলে নিজেই ডাক্তার সেজে চেম্বারে বসে দিব্বি দিচ্ছে রোগীর ব্যবস্থাপত্র।

কিছুদিন পুর্বে এই ফিরোজ ছিলেন হাটিকুমরুল রোডের অন্য একটি হসপিটালের কর্মচারী। তবে এখন তিনি চলে গেছেন ডাক্তার বনে। ভুল চিকিৎসা আর অনকল ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করায় প্রসুতি ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগও রয়েছে অনেক। অথচ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে অপচিকিৎসা বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ হীন ভাবে চালাচ্ছে তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠ তদারকীর অভাবে হেলথ্ কেয়ারে চলছে এসব অপচিকিৎসা ব্যবসা। এমন হসপিটালে রোগীরা এসে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করলেও পাচ্ছে না সঠিক রিপোর্ট ও চিকিৎসা।

দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে আর মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা স্বাস্থ্য সেবা যখন উন্নত হচ্ছে, ঠিক এমনই সময়ে ফিরোজ মাহমুদ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার গ্রাম ডাক্তারদের সাথে রয়েছে তার সখ্যতা। গ্রাম ডাক্তাররা রোগী পাঠিয়েই ফিরোজ মাহমুদকে ফোন করে বলে আমি রোগী পাঠালাম। তখনই কমিশন চলে যায় ঐ সকল গ্রাম ডাক্তারদের পকেটে। এমনই ভাবে মার্কেটিং পর্যায়ে নিয়োগ দিয়েছে কিছু দালাল। যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী তার হসপিটালে পাঠায়। নানা রকম ফাঁদে পড়ে রোগী ও তার লোকেরা বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সচেতন মহলের দাবী, হাটিকুমরুল, সলঙ্গা বাজার ও তাড়াশে হেলথ্ কেয়ার নামে চিকিৎসা বানিজ্যকারী কে? কে এই ফিরোজ? কেন তার এতো দৌরাত্ব? কি তার যোগ্যতা? কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। দ্রুত এসব ভুয়া হসপিটাল বন্ধ করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *