ডিমলায় কালবৈশাখী শিলাঝড়ে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি, কৃষকের মাথায় হাত

কৃষি ও প্রকিৃতি জাতীয় রংপুর

মশিয়ার রহমান, ডিমলা, নীলফামারী: গত শনিবার (১মে) ভোরবেলা আকর্ষিক কালবৈশাখী শিলাঝড়ে নীলফামারীর উত্তরের ডিমলা ও ডোমার উপজেলার বেশকিছু এলাকায় চলতি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডিমলা উপজেলারর ১ নং পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতনাই গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম, ছলেমান, আব্বাস আলী জানান, শুক্রবার দিনগত রাতে আকাশে কোন মেঘ ছিল না। হটাৎ করে ভোর ৪টা সাড়ে ৪টার দিকে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এর কিছু সময় পরপরই শিলাসহ ঝড়ো বৃষ্টি প্রচন্ড বেগে প্রবাহিত হয়। ১ ঘন্টার শিলাঝড়ে চলতি বোরো ধান , পাট ও মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে শত শত বিঘা জমিতে ধান নেই শুধু ধানের নাড়া দাঁড়িয়ে আছে। অনেক চাষি ঝড়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছেন। অনেকে বলছেন, ৫ হাজার টাকা দিয়ে অন্যের জমি লিজ/ বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছি। অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু আশায় গুড়ে বালি। লাভের পরিবর্তে ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। অনেকে আবার ঋণ করে ধান চাষ করেছেন। শিলাঝড়ে ধান নষ্ট হওয়ায় তাদের মাথায় হাত পড়েছে। কৃষকদের দাবি, করোনা কালীন সময়ে এমনিতেই আয় রোজগার কম। তার উপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। এমতাবস্থায় কৃষকেরা সরকারের আশু সাহায্যে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ও আমার অফিসের অনেকেই শিলাঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়েছি। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। পাটও প্রায় ৩০/৩৫ বিঘা ঝড়ের কবলে পড়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের তেমন কিছু করার নেই। তবে আমাদের লোক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করতেছে। আগামী রবি মৌসুমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সরকারি সাহায্যে সহযোগিতা করব ইনশাল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *