কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ঈদের কুড়িদিন পরে ভিজিএফ বিতরন

অপরাধ জাতীয় রংপুর

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউপিতে পবিত্র ঈদুল আযহার বরাদ্দকৃত ভিজিএফ’র চাল ঈদের ২০ দিন পরে বিতরন করেছে চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার। বুধবার চাল বিতরনকালে সাত নং ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী স্বামী কালামের হাতের টিপ মাস্টারোলে নিয়ে চাল না দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

গতকাল সোমবার ৯ই আগস্ট নির্বাচিত নয়জন জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষরিত চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকারের বিরুদ্ধে ১৫ অভিযোগের তদান্ত করেছেন তদান্ত কমিটির আহবায়ক ও দুই সদস্য। তদান্তের পরে চাল বিতরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ওঠেছে। ভিজিএফ বিতরন ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে গত ৩১ জুলাই ইউপি সংলগ্ন কাশেমবাজারে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, বর্তমান চেয়ারম্যান ৬মাস যাবৎ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ও বিশেষ সভা আহবান করেন না। তিনি ট্যাক্স, রেট, জন্ম নিবন্ধন ও বিভিন্ন প্রাপ্তির প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগে মামলা রয়েছে।একই ব্যাক্তি দু পদে চেয়ারম্যান ও অধ্যাপকের দায়িত্ব রয়েছে এবং সরকারি কোষাগার হতে দুটি পদের টাকা উত্তোলন করেছে।ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় দু:স্থ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নামে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চালের তালিকায় মৃত: ব্যক্তি, ডাবল ব্যক্তিসহ জাল টিপ দিয়ে চাল আত্মসাৎ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বিদের নামও তালিকায় অন্তভূর্ক্ত করেছেন।

এছাড়াও এলজিএসপি, কাবিটা, টিআর প্রকল্পে ওয়ার্ডসভা ও ইউপি সভা ছাড়াই দুর্নীতি করে একই প্রকেল্পে বার বার প্রকল্প নির্ধারণ করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি ভিজিএফ এর কার্ড নিজের কাছে রেখে ইচ্ছেমত চাল বিতরণ করেন। কিছু কার্ডদারীকে তিনি চাল দেয়া বন্ধ করায় ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিল বের করে। তিনি খোয়ারা ইজারা বরাদ্দের টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে বা কার্যবিবরণি না করেই নিজেই আত্মসাৎ করেন।এছাড়াও বাড়িতে বসে সরকারি চিঠিপত্র লেনদেন করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘর বরাদ্দে ভূমিহীনদের কাছে ৩০ হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহন এবং দু:স্থ ও বিধবা মহিলোদের কাছ থেকে এলজিইডি কর্তৃক আরএমপি প্রকল্পে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন ও সম্মানী ভাতা উত্তোলন করছেন মর্মে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান না করেই বিদেশ ভ্রমণ করেন। এছাড়াও বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, মাতৃত্বকালিন ও বিধবা ভাতা প্রদানে তার ব্যক্তিগত লোক দিয়ে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা করে ঘুষ গ্রহন করেছেন। এমন বিস্তর অভিযোগ এনে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান শ্রী রবীন্দ্রনাথ কর্মকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও অপসারণ প্রস্তাব স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্বাক্ষরকারী নির্বাচিত ইউনিয়ন সদস্যগণ হলেন, এন্তাল হোসেন, সাদেকুর রহমান সাদেক, হারুন অর রশিদ, মহুবর রহমান, শহিদুল ইসলাম, মোর্শেদা বেগম, জাহাঙ্গীর আলম মঞ্জু, হোসনে আরা এবং আবু বক্কর সিদ্দিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *