কুড়িগ্রামের নারায়নপুরে রাতের আঁধারে ৩০ বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, গুরুতর আহত -৬

অপরাধ জাতীয় রংপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নারায়নপুরে ৩০বাড়িতে আমজাদ আলী গংদের হামলা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার নারায়নপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দক্ষিন ঝাউকুটি গ্রামে গত রবিবার দিবার অনুমানিক রাত ৮টায় অন্ধকারে আমজাদ আলী সংঘবদ্ধ দল অন্তত ৩০বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে সবকিছুই লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে হামলাকারীদের বেগম মারপিটে রক্তাক্ত জখম হয়েছে প্রায় ১৫-১৬জন নারী-পুরুষ। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৬জন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

নারায়নপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড দক্ষিন ঝাউকুটি গ্রামের মৃত হুরমুজ আলীর পুত্র সাবেক মেম্বার আমজাদ আলী গংদের সাথে শফি উদ্দিন ছেলে নুর ইসলাম, আবু হানিফ, মোন্নাফ মেম্বারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রিয়াজুল ইসলামের দেয়া মামলায় নুর ইসলাম, আবু হানিফসহ প্রায় ২০-২২জন রবিবার সকালে কুড়িগ্রাম আদালতে জামিন নিতে যায় আর এ সুযোগে আমজাদ মেম্বারের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক মানুষ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নুর ইসলাম পক্ষের প্রায় ৩০টি বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ভাংচুর চালায়। ভেঙ্গে ফেলে মোটর সাইকেল। লুটতরাজ করে নিয়ে যায় টাকা-পয়সা, জমির দলিল, ধান-চাউল, কাপড়সহ ১৮টি গরু। ৩টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। চোখের নিমিষেই সবকিছু গুড়িয়ে দিয়ে যাবার সময় তারা জমি থেকেও একটি শ্যালো মেশিন তুলে নিয়ে যায়।

এ সময় হামলাকারীরা বাড়ির লোকজনকে বেধরক মারধর করে। এতে রক্তাক্ত জখম হয় ১৫-১৬ জন নারী-পুরুষ। তাদের মধ্যে হাতেম আলীর স্ত্রী সবুরা বেগম (৪৮), শাহাবুদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেন (৩৬), আকবর আলীর ছেলে আমীর হোসেন (৩৮), সফিউদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন (৩৫), হাতেম আলীর পুত্র সোমেদ আলী (২৬), আবুল হোসেনের স্ত্রী কাঞ্চন মালা (৩৬), গুরুতর হওয়ায় তাদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী নুর ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন কুড়িগ্রাম কোর্টে আমরা একটি মামলার জামিন হতে যাই। সে সুযোগে আমজাদ মেম্বার গংরা আমাদের পক্ষের ৩০বাড়িতে হামলা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

আমীর হোসেন বলেন, বাইতে মানুষ কম আছিল। খাওন শ্যাষ কইরা ঘুমাইতে গেছিলাম। সেই সুম হেরা হামলা কইরা আমগোরে সব শ্যাষ কইরা দিছে। কিচ্ছু রাহে নাইক্যা। হাত জুড় কইরা কছিলাম কিন্তু হোনে নাই। মাথায় বারি দিয়ে ফেলাইয়া দিছে আমারে। তাগোরের মধ্যে একজন আমার পায়ে বাড়ি দিয়া ভাইংগা দিছে। তাগোর টানা হেচরায়, মাইরের চোডে কন পন্নের কাপড় খুইল্যা গেছে মাইয়া মানুষ গোরের। কদভানু বলেন, হেরা আমাগোরে ব্যাবাক জিনিষ নিয়া গেছে বাপু। আমিতে হেইডা কইতে গেলে পরে হেরা আমার মাথায় বারি দিয়া ফাডায়া দিছে। প্রায় একই রকম কথা জানান সকলেই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হামলাকারী আমজাদ মেম্বার ও রিয়াজুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

নারায়নপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনা শুনে আমি সোমবার সেখানে যাই। হামলাকারীরা যেভাবে বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে লুটতরাজ করেছে, মহিলা-পুরুষদের পিটিয়েছে তা দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারিনি। যারাই দেখেছে তারাই কেদেছে। মানুষ এতটা নৃশংস হতে পারে তা ভাবা যায়না। আজ ওই পরিবারের লোকজন কি খাবে, কি পরবে সেটুকুও তারা রেখে যায়নি। এমনকি তারা যাবার সময় জমি থেকে একটি শ্যালো মেশিন তুলে নিয়ে যায়। এসব বিষয়ে নিয়ে আমি আগামীকাল নাগেশ্বরীতে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলব।

কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ জাহেদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ না করলেও ঘটনা শোনার পরেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এলাকাটি নদী বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নৌকার অভাবে তারা সেখানে পৌছাতে পারেনি। আজ সকালে (সোমবার) পুলিশ সেখানে গেছে। তারা ফিরে এলে বিস্তারিত জেনে ব্যাবস্থা নেয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *