নাগেশ্বরীতে মসজিদে ইমামের ভুল ধরতে গিয়ে সমাজচুত্য ৭ পরিবার

জাতীয় রংপুর

নাগেশ্বরীতে মসজিদে ইমাম সাহেবের ভুল ধরতে গিয়ে সমাজচুত্য ৭পরিবার। কোরবানীর মাংসের সামাজিক ভাগ বন্টনের অংশ থেকে বঞ্চিত, প্রান নাশের হুমকি ও থানায় অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের ১১মাথা বায়তুর নুর মসজিদের সাবেক ইমাম, মাওলানা বেবাল হোসাইন বিগত দেড় বছর পূর্বে এক জুম্মার নামাজের দিন আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ডঃ মিজানুর রহমান আযাহারীকে বাংলাদেশের কতিপয় আলেমের ষড়যন্ত্রে মালেশিয়া পদার্পণ করতে বাধ্য হন। তিনি বক্তৃীতায় আরও বলেন ডঃ মিজানুর রহমান আযাহারী আবার কোনো একদিন যখন বাংলার মাটিতে ফিরে আসবেন তখন প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে আসবেন বলে তিনি মন্তব্য রাখেন। তার এই রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের সময় সেদিন ঐ জুম্মার নামাজে মুসল্লি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঐ সমাজের একজন মাদ্রাসার এতীম ছাত্র, আশরাফুল ইসলাম। ইমাম সাহেবের রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্যের কারণে জুম্মার নামাজের পরে আশরাফুল ইসলাম রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যে নিয়ে সে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এটাকি হাস্যকর বিষয় নয় ? তার এই স্ট্যাটাস ঐ ইমামের চক্ষুগোচর হলে তিনি কমিটিদেরকে বিষয়টি জানালে কমিটির তিন সদস্য ও প্রধান সামাদ বিডিআরের নেতৃত্বে আশরাফুলকে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে আসেন এবং হুমকি-ধামকি দেন। সে বিষয়টি নিয়ে তৎক্ষনাৎ ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা না করায় আশরাফুল নিজেকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক কয়েকজনের নাম বলে সেখান থেকে চলে আসে।

পরে এ বিষয়টি নিয়ে কমিটিবৃন্দ আশরাফুলকে সমাজচ্যুত করবে বলে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে বলেন। অতঃপর, আশরাফুল নিজের প্রাণ রক্ষার্থে নাগেশ্বরী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আপোষের জন্য নাগেশ্বরী থানার ওসি রওশন কবির নেওয়াশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সরকার এবং স্বাক্ষীসহ দুপক্ষকে থানায় কথাবার্তার আলোকে ভবিষ্যতে এরুপ অপরাধ না করার অনুরোধ করা হয়। এরই জের ধরে উক্ত মসজিদ কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ (দুলু) বিডিআর এর নেতৃত্বে সভাপতি, আলহাজ্ব আতাউর রহমান, সৈয়দ ব্যাপারী, জাহিদুল ইসলাম এবং আনোয়ার হোসেনের চক্রান্তে আশরাফুলের পক্ষে স্বাক্ষী দেয়ার ফলে অভিযোগকারী আশরাফুল ইসলামের পরিবারসহ উক্ত স্বাক্ষী প্রদানকারীর ইসমাইল হোসাইন, শাহজামাল হোসেন, মাওলানা মুফতী সোলায়মান (বাদশা), আনোয়ার হোসেন প্রমূখগণের পরিবারকে সমাজচুত্য করে বিগত ২১জুলাই ২০২১খ্রিঃ তারিখে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার কোরবানী মাংসের সামাজিক হক থেকে বঞ্চিত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ইসমাইল হোসাইন বিগত ২০জুলাই ২০২১খ্রিঃ তারিখে নাগেশ্বরী থানায় উল্লেখিত কমিটির বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সামাদ বিডিআর প্রতি জুম্মায় হাফহাতা শার্ট গায়ে দিয়ে মসজিদের মেম্বারে বসে অসামাজিক কথাবার্তা বলে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে সমাজ চুত্য হতে হয়।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক রিয়াজুল ইসলাম বাবলু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সামাদ বিডিআর ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ও অন্যায়ভাবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সমাজচুত্য করার কারনে আমি কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি।

মসজিদ কমিটি সদস্য সামদ বিডিআর জানান, অভিযোগকারী ইসমাইল হোসাইনের পরিবারদের সাথে আমার কোন দ্বন্দ্ব নেই। তবে আশরাফুলকে নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

অভিযোগ কারী ইসমাইল হোসাইন জানান, আমরা এমন কোন সমাজবিরোধী কাজ বা অপরাধ করিনি। সমাজে ন্যায় অন্যায়ে দেখে আশরাফুলের বিষয়ে সত্য কথা বলেছি এটা কি অপরাধ। সামাদ বিডিআর পূর্বের জের ধরে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের গ্রামের কয়েক পরিবারকে সমাজচুত্য করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং ন্যায় বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ নবিউল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের সাথে কথা হয়েছে এবং আপোষের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *