ভুরুঙ্গামারীতে কৃষক নয়, ব্যবসায়ীদের ধান যাচ্ছে গুদামে!

কৃষি ও প্রকিৃতি জাতীয় রংপুর

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, কৃষকরা সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। তাদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের ধান যাচ্ছে গুদামে। ফলে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনার সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।

মঙ্গলবার (২৯জুন) বিকালে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা (জয়মনিরহাট) খাদ্য গুদামে গিয়েও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা ৭-৮টি ট্রলিতে বোঝাই করে ধান গুদামে ঢুকাচ্ছেন। সেখানে কোনও কৃষককে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক দেখে ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে অনুরোধ করে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তারা এ ধরনের কাজ আর করবেন না। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধও করেন।

জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষক যেন ভালো মুনাফায় ধান বিক্রি করতে পারেন সেজন্য ভুরুঙ্গামারী উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটি উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করে সে তালিকা অনুযায়ী কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকের কৃষি কার্ড মাত্র এক হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছেন প্রভাবশালী মহলের আর্শিবাদপুষ্ট ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। আর খাদ্য বিভাগের দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তার এতে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বোরো মৌসুমে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা খাদ্য গুদামের বরাদ্দকৃত ধান ১হাজার ৯২৭মেট্রিক টন, গম ২হাজার ৪৪১মেট্রিক টন ও চাল ৪হাজার ২৪৮মেট্রিক টন সংগ্রহে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মামুন আর রশীদ অদ্যাবধি পর্যন্ত ধান ১হাজার ৮০৯মেট্রিক টন, চাল ৪হাজার ২২৯মেট্রিক টন সংগ্রহ করাসহ গম সংগ্রহ শেষ করেন।

খাদ্য গুদামের একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহলের আর্শিবাদপুষ্ট ও গুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ট্রলি বোঝাই ধান এনে গুদামে ঢুকাচ্ছেন।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা (জয়মনিরহাট) খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মামুন আর রশীদ এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখবো। পরে কথা না বলে ভুরুঙ্গামারী চলে যান।

উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
এ ব্যাপারে রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পরিপত্র অমান্য করে ধান ক্রয়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *