কুড়িগ্রামে আন্ত:জেলা বাস চলাচল শুরু, মানা হচ্ছেনা স্বাস্থবিধি

হোম

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউনে সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সারা দেশের মতো কুড়িগ্রামেও শুরু হয়েছে আন্ত:জেলা বাস চলাচল।সকাল ৬টা থেকে শুরু করে দিনভর এসব বাস চলাচল করে। কুড়িগ্রাম থেকে রংপুরগামী বাসগুলো রাজারহাট উপজেলার বড়বাড়ী এলাকার মুজতবি পর্যন্ত কুড়িগ্রামের যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। অন্যদিকে,জেলার অভ্যন্তরে কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম-উলিপুর-চিলমারী রুটে বাস চলাচল করতে দেখা যায়। তবে এসব রুটে বাস চললেও যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে খুব একটা দেখা যায়নি। অনেকের মুখে ছিলনা মাস্ক আবার বাসে যাত্রীদের মধ্যে দেয়া হয়নি হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ ভাইরাস প্রতিরোধক।

এ বিষয়ে সদর থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো: শাহরিয়ার জানান,আমরা মালিক,চালক ও হেল্পারদের সচেতন করতে কাজ করছি। তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে যাতে স্বাস্থ্যবিধি লংঘণ করা না হয় সে ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে।

এদিকে,সকাল থেকে জেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীন অল্প কয়েকটি বাস ছেড়ে যায়। রংপুরগামী কয়েকটি বাসে দুই সিটে একজন করে যাত্রী বসানো হলেও ভাড়া বর্ধিত হারে আদায়ের অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চেক পোষ্ট কয়েকটি জায়গায় বসানো হয়েছে। সেখানে কঠোরভাবে পুলিশ স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাস চলাচলে পর্যবেক্ষণ করছে

পাপ্পু নামের এক বাস চালক জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ায় আমরা পরেছি মহা বিপদে। যাত্রী কমে যাওয়ায় কারণে তেলের দামই উঠবে না বলে জানান এই চালক।

জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সভাপতি মো: লুৎফর রহমান বকসী জানান,আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস চলাচলে স্বাস্থবিধি মেনেই চলতে চাই। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলেছি যাতে তিস্তা সেতুর পাশে আমাদের অস্থায়ী বাস স্ট্যান্ডের সুযোগ করে দেয়া হয়। কিন্তু কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে সকাল থেকে যাত্রী কম হওয়ায় রংপুরগামী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তাছাড়াও যাত্রী থাকলেও রাস্তায় থ্রি হুইলার জেএসসহ অটোরিক্সার কারনে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে যাত্রীরা ওসব যানবাহণে যাচ্ছেন বেশি। এ অবস্থায় বাস চলাচল সম্ভব হবেনা বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: রুহুল আমীন বলেন, জেলায় ৪টি চেক পয়েন্টে যান চলাচলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ যাতে জেলার বাইরে বাস চলাচল করে যেতে না পারে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি কোনভাবেই যাতে বিঘ্নিত না হয় সেটি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *