ফুলবাড়ীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ

অপরাধ জাতীয় রংপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জোরপূর্বক ১৭ টি সুপারি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (২৩ মার্চ) ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আজোয়াটারী গ্রামের ছড়ারপার এলাকায়। ওইদিনই সন্ধ্যা গাছের মালিক শ্রী গণেশ চন্দ্র সেন ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে জানা গেছে, আজোয়াটারী গ্রামের ছড়ার পার এলাকার মৃত মহেশ চন্দ্র সেনের ছেলে গণেশ চন্দ্র সেন তার ক্রয় করা জমির সীমানায় সুপারীর গাছ লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছে। পাশের জমিতে একই এলাকার মৃত মংলু চন্দ্র সেনের দুই ছেলে কার্তিক চন্দ্র সেন ও জগদীশ চন্দ্র সেনের বসতবাড়ি।

গণেশের জমি তাদের বাড়ি সংলগ্ন হওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে জোরপূর্বক জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এ নিয়ে এলাকাতেও কয়েকবার সালিশ বৈঠক করে কোনো সুরাহা হয়নি। ঘটনার দিন সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করার উদ্দেশ্যে লোকজন নিয়ে এসে জমির সীমানায় থাকা অন্য গাছসহ ১৭ টি সুপারির গাছ কেটে ফেলে।

স্থানীয় মন্তোষ চন্দ্র সেন, আলমগীর হোসেন, বুলু মিয়া সহ আরো অনেকে বলেন, জমিটা দুই পক্ষেরই কেনা এবং একই দাগের। তারা একই মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করেছিল। এছাড়াও একই এলাকার আলহাজ্ব আবু তালেব উদ্দিন ওই মালিকের কাছ থেকে অন্য দাগে জমি কিনেছেন। জমির মূল মালিক সব বিক্রয় করে ভারতে চলে গেছেন। জমিটার একদিকে কার্তিকরা দুইভাই বাড়ি করেছে আর একদিকে গণেশ চন্দ্র সেন চাষাবাদ করে। গাছগুলোতে সুপারি ধরা শুরু হয়েছে। কাউকে না জানিয়ে জোর জুলুম করে কেটে ফেলা ঠিক হয় নাই।

এব্যপারে অভিযুক্ত কার্তিক চন্দ্র সেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দলিল অনুযায়ী আমাদের দু’পক্ষের ছাড়াও এই দাগে আরো তিন শতক জমি অবশিষ্ট আছে। একই মালিকের অন্য দাগে আবু তালেব উদ্দিন কেনা দলিলের চেয়ে তিন শতক জমি কম। তাই আবু তালেব উদ্দিন এখানকার তিন শতক জমির মালিকানা দাবি করেন। আমার বাড়ির সাথে হওয়ায় তিনি সেই তিন শতক জমি আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এসময় আবু তালেব উদ্দিন বলেন, জমি আমার, আমি কার্তিককে বাড়ি করার জন্য বলেছি। আমার জমির গাছ আমি কাটতে বলেছি।

অভিযোগের তদন্তকারী অফিসার ফুলবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক আব্দুল কাদের সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেছেন। বিবাদ আপোষ মিমাংসা না হওয়া পর্যন্ত ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সেখানে যেন নতুন করে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য স্থানীয় লোকজন সহ দু’পক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *