1. admin@bangonews24.com : admin :
  2. bangonews024@gmail.com : bangonews24 :
  3. mahfuzlh07@gmail.com : mahfuz :
  4. nurnobifulkuri@gmail.com : nurnobifulkuri : Nurnobi Sarker
  5. prodip2354@gmail.com : tushar :
  6. vividwadud@gmail.com : vivid wadud :
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় যাত্রাপালা ‘কাশেম মালার প্রেম’ ও দেওয়ান করিম খান

বঙ্গনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

হাবিবুর রহমান, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় একটি যাত্রাপালা ‘কাশেম মালার প্রেম’। সেসময় এই যাত্রাপালাটি দেখেন নাই এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। এই সামাজিক যাত্রাপালা দেখার জন্য আগেকার মানুষ ভীর জমাতেন সিনেমা হলে। এছাড়াও শীতের মৌসুমে মঞ্চস্থ হতো বিভিন্ন স্থানে। আরো চলতো বিভিন্ন পুঁথি সাহিত্য পাঠের আসর। তখন প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে গায়ে চাদর মুড়িয়ে রাত জেগে জেগে মানুষ উপভোগ করতেন। কিন্তু সেই দিনগুলো এখন আর নাই‌। আশি ও নব্বইয়ের দশকের মানুষের কাছে এসব এখন শুধুই স্মৃতি।

স্মৃতি বিজড়িত সেই ‘কাশেম মালার প্রেম’ যাত্রাপালার লেখক দেওয়ান করিম খান (ক্ষুদি) কে নিয়ে লিখেছেন তার নাতি আমাদের মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। দেওয়ান করিম খানের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার ধানকোড়া গ্রামে। তার বাবার নাম দেওয়ান জব্বার দফাদার। কাশেম মালার প্রেম যাত্রাপালাটি লেখার মধ্য দিয়েই সারাদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন দেওয়ান করিম খান। সাগর দিঁঘি, মালার বনবাস নাটক তার রচিত। এছাড়াও তিনি অসংখ্য মুর্শিদি, কাওয়ালি, দেশত্ববোধক ও ভাব বিচ্ছেদ গান রচনা করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই দেওয়ান করিম খানের লেখা লেখির প্রতি আগ্রহ ছিলো। তবে ছিলো না কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা, ছিলো না কোনো ডিগ্রি। তবে সুস্পষ্ট ছিলো বাংলা হাতের লেখা। লেখালেখিই ছিলো তার প্রাণ ও জীবনের উদেশ্য। স্থানীয়ভাবে তিনি বাউল শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মধ্যে ছিলো গান গাওয়া, কবিতা, গান, নাটক ও সিনেমা ইত্যাদি রচনা করার মত জ্ঞান। হারমোনিয়াম, দোতারা, তবলা, কঙ্গ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান করতেন। নাট্টমঞ্চে অভিনয় করে মানুষের মনে নিজেকে গেথে নিয়েছিলেন তিনি।

এর পর তিনি নাটক বই লেখে তার নাম দেয় কাশেম মালার প্রেম এবং নাটকটি তিনি যাত্রাপালায় কিছু ভালো গুনি গ্রাম্যনাটকের শিল্পি দিয়ে গ্রাম্য মঞ্চে অভিনয় করায় ও ঐ কাহিনি মানুষের মন ছুয়ে যায়। নাটকটি মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পেলে ১৯৯১ সালে ক্ষুদির জীবনে উজ্জ্বলা চলে আসে। তার লেখা ছায়াছবির কাহিনি ভালো লাগে পরিচালক মোস্তফা আনোয়ার সাহেবের। তিনি ভালো দাম দিয়েই কিনে নেন ‘কাশেম মালার প্রেম’ বইটি। পরে ঐ নাটক বইটি ছায়াছবি আকারে বাংলাদেশ চলচিত্রে স্থান পায়। সিনেমার মূখ্য চরিত্রে প্রথম একক নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন নায়ক মান্না ও নায়িকার চরিত্রে ছিলেন চম্পা। এতে আরো মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন দিলদার, আনোয়ার হোসাইন, প্রবির মিত্র, খালেদা আক্তার কল্পনা সহ আরো অনেকেই।

তার পর তার আর দেওয়ান করিম খানকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। একাধারে তিনি লিখতে শুরু করেন আরো অনেক নাটক বই। যেমন সাগর দিঁঘি, মালার বনবাস ইত্যাদি তিনি লিখেছিলেন। গান লিখতে লিখতে গানের উসতাদ বনে যান তিনি। শত শত মুর্শিদি, কাওয়ালি, দেশত্ববোধক ও ভাব বিচ্ছেদ গান রচনা করে ব্যপক সাড়া ফেলেন সেসময়। সেই গানগুলো এখনও গ্রাম্য মঞ্চে গেয়ে থাকেন তার অনুসারী ছাত্ররা। পারিবারিক জীবনে ক্ষুদি ছিলেন খুবই সহজ-সরল ও সাদামাটা ভাবের মানুষ। সহধর্মিণী দেওয়ান রুবি বেগম তার ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েকে নিয়েই তার পারিবারিক ও সাংসারিক জীবন। তার বড় ছেলে দেওয়ান মঞ্জুর আলম কৃষিকাজের পাশাপাশি এখনও সুযোগ পেলে গ্রাম্য নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেন।

দেওয়ান করিম খান সামাজিক জীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে নিজের সামাজিক জীবন পরিচালিত করেছেন। তিনি শিল্পী সমাজকে প্রচুর ভালোবাসতেন ও সম্মান করতেন। যাকে যেভাবে যতটুকু সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তিনি ২০০৩ সালে কিছু নাটক বই লেখা অসম্পূর্ণ রেখে অনেক ভক্ত, ছাত্র-ছাত্রী ও পরিবারের সকলকেই কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

শেয়ার করুন




এই বিভাগের আরও খবর










আপনার জন্য নির্বাচিত




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
ঢাকা,বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বঙ্গ নিউজ ২৪.কম