1. admin@bangonews24.com : admin :
  2. bangonews024@gmail.com : bangonews24 :
  3. mahfuzlh07@gmail.com : mahfuz :
  4. nurnobifulkuri@gmail.com : nurnobifulkuri : Nurnobi Sarker
  5. prodip2354@gmail.com : tushar :
  6. vividwadud@gmail.com : vivid wadud :
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

পথের কন্যা ফারিয়ার

শাহারিয়া আলম রিশাদ, ঢাকা
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

মার্চ মাসের কোনো এক বিকালে, Streets Photography করার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে পরি।
সবসময়ের মতো তখনও আগে থেকে কিছু ভেবে রাখিনি যে ঠিক কোথায় যাবো বা কি ধরনের স্থীরচিত্র ধারণ করবো। বাড়ি থেকে হাটা শুরু করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত গেলাম। কিন্তু মনের মত স্থীরচিত্র ক্যামেরাবন্দি করতে পারলাম না। আমার আবার ধৈর্য্যটা একটু কম, নাই বললেও খারাপ হবে না৷ তবে ফোটোগ্রাফির ব্যাপারে ধৈয্যের পরিক্ষা না দিলে ভালো কিছু করা সম্ভব না, এটা ভাবতে ভাবতেই টি এস সি’র মোরে এসে ক্যাফেটেরিয়া চত্ত্বরে বসে পড়লাম। দৈনন্দিনের মতোই লোকজন আছে। কেউ ফুচকা খেতে ব্যস্ত, কেউ বা পরন্ত বিকালের এক কাপ চায়ে চুমুক দিতে। ওই সব দেখছিলাম। হঠাৎ করে চোখজোড়া একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে থেমে গেলো। বাহ্! কি হাসি! মনে হয় সেই হাসিতে আমি খুজে পেলাম জীবনের যত পাওয়া, না পাওয়া অহেতুক কথা….

হাসিটা ছিলো এক নিষ্পাপ শিশুর। যেখানে ব্যস্ত শহর নিজের গতিবেগে ছুটছে, সেখানে এই শিশুটি মনের আনন্দে খেলা করছে ❤️ অন্য দশটা শিশুর মত তার কাছে যদিও খেলার জন্য কোনো খেলনা ছিলোনা। তাও সে তার আশেপাশে থাকা ধুলোবালিকেই যেনো নিজের খেলার সঙ্গী হিসেবে বাছাই করে নিলো।

শিশুটির চোখ আর মুখের হাসিতে লুকিয়ে আছে অনেক মায়া। মনে হয় যেনো ক্ষুদ্রতার মাঝে খুজে পেলো বিশালতা। আর আমিও পেয়ে গেলাম আমার মনের মতো স্থীরচিত্র, যার জন্য সেদিন আমার সারাটা বিকেল ঘুরে বেড়ানো।

সেইদিন শিশুটির কয়েকটা চিত্র নিয়ে চলে এলাম। তবে তার সম্পর্কে কিছুই আর জানা হয়নি। ভাবিনি ওকে নিয়ে কখনো লিখাও হবে!
ইতিমধ্যে স্যোসাল মিডিয়াতে ছরিয়ে পরে আমার তোলা শিশুটির সেই স্থীরচিত্র। অনেকটাই ভাইরাল হয়ে পরে গ্রুপে গ্রুপে, মানুষের ডে বা টাইমলাইনের পোস্টে। আর অনেক গ্রুপে তো বেস্ট ফটো অফ দ্যা ডে ও হয়ে পরে এই স্থীরচিত্রটি।

অনেকেই তখন প্রশ্ন করেছিলো শিশুটা আমার কি হয়? সে কে……?

আমি উত্তরে এটুকুই বলেছি যে, সে একজন পথশিশু।

তবে এটাই কি তার আসল পরিচয়…..?

কেনো আমরা তাদের নাম জানতে চাই না? আমরা কি করে ভুলে যাই যে, তাদেরও নাম আছে, আছে নিজ পরিচয়। শুধুমাত্র পরিস্থিতির শিকারে তারা আমাদের মত অট্টালিকাতে থাকতে পারেনা, আমাদের মত করে জীবনযাপন করতে পারেনা। তারা কি রাস্তার ধারে থাকে বলেই তারা পথের হয়ে যাবে….?
প্রায় ৪ মাস পর আমি শিশুটার খোজ করতে আবার সেদিকে যাই। তবে যা শুনতে প্রস্তুত ছিলাম না।

তার নানুর মুখে জানতে পারি, শিশুটিকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। হতাশ হয়ে পরি। চলে আসি সেদিন। পরদিন জানতে পাই যে সেদিন রাতে অনেক খোজার পর রাত ১১ টায় তাকে পাওয়া গেছে। তার কোনো এক ভাই এর কাছ থেকে।
কিছুদিন পর আমি আবার সেখানে যাই। এইবার আমি তার দেখা পাই।
আমাকে দেখে তার সেই হাসিটা দেখে মনে হয় অনেক দিন ধরে আমাকে সে চেনে। এরপর শিশুটির মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম শিশুটির নাম “ফারিয়া ”

যার হাসি মুক্তমনি চারিদিকে দেয় ছরিয়া! সেই শিশুটির নাম “ফারিয়া ”
🌸❤️🌸

ফারিয়ার বয়স এক বছর ৪ মাস।ফারিয়ার পরিবার খুব ছোট্ট পরিবার।তারা এক ভাই, তার মা-বাবা আর সে।
ফারিয়া তার পরিবারের ছোট্ট সদস্য। তার মা পেশায় একজন ফুল বিক্রেতা। টিএসসি’র অই চত্ত্বর টাতেই ফুল বিক্রি করেন।
ওর বাবা দিন মুজুর। কিন্তু সবসময় কাজ পায় না। তারপরও ফারিয়ার মা টুকটাক ফুল বিক্রি করে দিব্যি সংসার চালান। ওদের বাসা কামরাঙ্গিচর ( বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে ) বাবা, মা দুই জুনেই কাজ করাতে তাদের দুই ভাই-বোনকেও তার মায়ের সাথে থাকতে হয়। তার মা একপাশে ফুল বিক্রি করেন আর অন্যপাশে পথে বসে থাকা আরেকটি ফুল নিজের মত করে খেলা করে। মাঝেমধ্যে মাটি থেকে তুলে এটাসেটা মুখে দিচ্ছে। সেই সুযোগে আমি তার আরো কিছু স্থীরচিত্র নিলাম। আর আসার সময় অনেকগুলো দোয়া আর ভালোবাসা দিলাম ছোট্ট ফারিয়াকে।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে ফারিয়াও কি তাহলে বড় হতে হতে শিখে যাবে ফুল বিক্রি করা….?
হয়তো তাই হবে! এইটাই তো হওয়ার কথা! কারন ফারিয়া এখন হয়তো জানে না সে কি! বা সে কে! বড় হতে হতে সময় তাকে বুঝিয়ে দিবে দারিদ্রতা, অভাব আর অর্থের প্রয়োজনীয়তা। আর এইসবে ফারিয়াও একদিন ফুল বিক্রি করতে বসে পরবে কিংবা আমাদের ধারে আসবে দু-মুঠো ভাতের জন্য।

এটাই নিয়ম! এটাই সিস্টেম! কিছু করার নেই! কেনোই বা করবো! এমন হাজারো ফারিয়া আছে আমাদের আশেপাশে, যারা এভাবেই বেড়ে উঠেছে আর এভাবেই বেড়ে উঠবে।

আসলে কি তাই? কিছুই কি করার নেই আমাদের?
কেমন হয়! যদি এমন ফারিয়াদের জন্য আমরা যার যার জায়গা থেকে কিছুটা দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেই……?

কেমন হবে! যদি বলি ফারিয়ার হাতে বিক্রির জন্য ফুল নয় বরং চিত্রাংনের জন্য রংতুলির সাত রং তুলে দেই…?

কেমন হবে! যদি বলি, পরিস্থিতির সাথে সাথে বেড়ে উঠা ফারিয়াকে স্কুলে যেতে দেখবো।
হয়তো এমনি কোনো এক ফারিয়া ফুল বিক্রির জন্য নয়, বরং জীবনে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে। হতেও পারে এবং সেটা বাস্তবায়নও করা সম্ভব। তাদের প্রয়োজন একটু সাপোর্ট, একটু গাইডলাইন। যা দেখিয়ে দিতে পারে তাদের আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

জানি অনেকেই পুরোটা পড়বেন না। তবে সম্পূর্ণটা পড়ে থাকলে আপনার মতামত এর অপেক্ষায় আছি। আপনারাই বলে দিতে পারেন, ঠিক কি করলে ফারিয়াদের মত শিশুরা আগামীতে নিজের পরিচয় একজন পথশিশু হিসেবে নয়, নিজ নামে দিতে পারবে।

লেখা ও চিত্রধারন:
শাহারিয়া আলম রিশাদ
পুরান ঢাকা।

শেয়ার করুন




এই বিভাগের আরও খবর










আপনার জন্য নির্বাচিত




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
ঢাকা,বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বঙ্গ নিউজ ২৪.কম