1. admin@bangonews24.com : admin :
  2. bangonews024@gmail.com : bangonews24 :
  3. mahfuzlh07@gmail.com : mahfuz :
  4. nurnobifulkuri@gmail.com : nurnobifulkuri : Nurnobi Sarker
  5. prodip2354@gmail.com : tushar :
  6. vividwadud@gmail.com : vivid wadud :
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের তরুণদের সমাজ সেবা

বঙ্গনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১

বহির্বিশ্বের তরুণদের সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন সমাজকমের্র উদাহরণ অনেক পাই আমরা। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশের তরুণরাও পিছিয়ে নেই। তারুণ্য নির্ভর সংগঠন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ ও তাদের রংপুর অঞ্চল নিয়ে এবারের বিশেষ আয়োজন।

লিখেছেন-

• আরিফুল ইসলাম

কথায় আছে, বিপদে আসলে বন্ধু চেনা যায়। ভাটা পরে বন্ধুত্বে, পাওয়া যায় প্রকৃত বন্ধু। কিন্তু সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যাঁরা বিপদ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে, এগিয়ে যায় অন্যদের উদ্ধার করতে। হোক সেটা তাঁর বন্ধুর কিংবা শত্রুর। বলছি ধরনীর বুকে যাঁরা সর্বদা গর্বের সঙ্গে বসবাস করে সেই সেচ্ছাসেবকদের কথা। আর এই সেচ্ছাসেবকদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে থাকে তারুণ্য। ‘তারুণ্য মানে নতুন করে পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়, তারুণ্য মানে সত্যের বুকে মিথ্যার পরাজয়। তারুণ্য মানে পুরাতন ভেঙে নতুন গড়ার আহবান, তারুণ্য মানে পৃথিবীর বুকে সত্যের জয়গান।’

সমাজ বলতে আমরা সহ আমাদের চারপাশে মানুষ, পশুপাখি, গাছ-পালা, আলো বাতাস, পরিবেশ সহ ইত্যাদি যা কিছু আছে এসবকেই বুঝে থাকি। একজন মানুষকে সামাজিক হতে হলে তাকে সমাজের ইতিবাচক কর্মকান্ডে সক্রিয় হতে হয়। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তরুণ প্রজন্ম। এই বিরাট সংখ্যক তরুণদের বাদ দিয়ে সমাজের কোনো পরিবর্তন আশা করা যায়না। তাই সমাজের সকল ইতিবাচক কাজে তরুণ প্রজন্মকে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। তরুণদের সামাজিক কাজে অন্তর্ভুক্ত করতেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন। সংগঠন শব্দটি আসতেই এরিস্টটলের একটি বিখ্যাত উক্তি মনে পড়ে যায়, ‘সংগঠন মানুষের নেতিবাচকতা থেকে বেড়িয়ে আসতে সহযোগিতা করে। হতাশা ও দুঃখবোধ থেকে বেড়িয়ে আসতেও সাহায্য করে। চলার পথে একে অন্যকে সহযোগিতা করার মানসিকতা তৈরী করে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার পরিবেশও তৈরি করে সংগঠন’।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের অনুপ্রেরণায় তৈরি ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কাজে অন্তর্ভুক্ত করা ও যুগোপযোগী সক্রিয় নাগরিক তৈরির লক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় তাদের পথচলা। বর্তমানে তাদের দেশব্যাপী ১৯০১ টি ইউনিটে ৪৭১১০ জন সক্রিয় সদস্য আছে। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করে তাঁরা। বাংলাদেশে করোনা মহামারীতে জোরালো ভূমিকা রেখে চলছে সংগঠনটি। কোভিড-১৯ আক্রান্ত মৃত মানুষের জানাযা সম্পূর্ণ, আক্রান্ত ব্যাক্তির পরিবারে মানসিক সহয়তা, শ্রম ও আশ্রয়হীন মানুষদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে তাঁরা।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য তারুণ্যের বই উৎসব, জাতীয় বিতর্ক উৎসব, ফটো প্রতিযোগিতা, সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার, ওয়ার্কশপ, নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ট্রেনিং, ইন্টার্নির আয়োজন করেছে তাঁরা। এবং ভবিষতে আরও আয়োজন করবে সংগঠনটি।

সারাদেশে ১৬১৬ টি সামাজিক উদ্যোগ আছে তাদের। অন্যতম সামাজিক উদ্যোগ গুলো হলো উদ্যোক্তা তৈরি করা, তথ্য প্রযুক্তির ট্রেইনিং, সামাজিক সচেতনতা, মানবাধিকার শিক্ষা, লিঙ্গ সচেতনতা,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য শিক্ষা, পরিবেশগত শিক্ষা ও বিভিন্ন আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ইত্যাদি।এছাড়াও সংগঠনটির ৩৩জন ইয়ূথ লিডারের নতুন আরও ৩৩টি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উদ্যোগে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের কার্যক্রমের অন্যতম রংপুর অঞ্চল। এই অঞ্চলে ২৫৬ টি ইউনিটে ৭২৬৯ জন সক্রিয় সদস্য আছে।রংপুর অঞ্চলের সদস্যরা করোনাকালীন সময়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো, রক্তদান কর্মসূচি সহ নানারকম সামাজিক ও দুর্যোগকালীন সমস্যা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। করোনা মহামারীতে গ্রাম জীবানু মুক্ত করতে জীবানুনাশক স্প্রে, মসজিদ ভিত্তিক আলোচনা, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি ও করোনা সহনশীল গ্রাম গঠন ইত্যাদি কাজ করে যাচ্ছে তাঁরা।
সংগঠনটির রংপুর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কোপ-২৬ আইডিয়া বিজয়ী দুটি উদ্যোগ সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এই অঞ্চলের ইয়ূথ লিডার মাসুদ জানায়, ২০১৯ সালে একটিভ সিটিজেন ইয়ূথ লিডারশিপ ট্রেনিং করার পর একটি সামাজিক উদ্যোগে কাজ করার সুযোগ লাভের মাধ্যমে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হই। তখন থেকেই ভালোবাসার সংগঠন হয়ে ওঠে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ। আগামী দিনগুলোতেও এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

রংপুর অঞ্চলের অন্যতম ইয়ূথ লিডার আরমান আরাফাত অনিক জানায়, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার এর সাথে যুক্ত হয়ে আমি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাই। করোনার মহামারিতে ঘরে বসে সারা বাংলাদেশ এর তরুণদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতগুলোতে কাজ করার সুযোগ হয়ে ওঠে। এই মূহুর্তে রংপুর এর শ্যামাসুন্দরী খাল এর পুনঃসংস্কার এর জন্য জনসচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। একজন স্বেচ্ছাসেবক হোন, একজন সুন্দর ব্যক্তি হোন – একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমাদের সকলকে এটি সব সময় মেনে চলতে হবে।

সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ইয়ূথ লিডার ও রংপুর অঞ্চলের যুগ্ম সমন্বয়কারী মোঃ তারিফ-উল ইসলাম তানিন বলেন, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ একটি বিশ্বাস, চেতনার নাম। সারাদেশের ন্যায় রংপুর অঞ্চলের তরুণরা সমাজ ও আত্নউন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় রংপুর অঞ্চল থেকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের COP26:Youth Engagement Challenge Fund এ দুটি টিম বিজয়ী হয়েছে, যা রংপুরের তরুণদের জন্য গর্বের। আশা করি Shamasundori : The Name Of Resilience ও Green Team এর মাধ্যেমে রংপুরের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের কাজ দেখে মনে পড়ে যায় কামিনী রায়ের বিখ্যাত কবিতার চারটি লাইন,

“আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।”

ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ এর আদলে তৈরি আরো অনেক সংগঠন দেশের আনাচে-কানাচে কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠনগুলোর যে তরুণরা কাজ করতেছে , ভবিষ্যতে তারাই নেতৃত্ব দিবে আমাদের সমাজকে। তাদের মাঝে নেতৃত্বের বিকাশ, সমাজ সচেতন মানসিকতা সব সময় বিরাজ করে। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি করোনাকালীন সময়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করোনা সহনশীল গ্রাম গঠনে ভূমিকা রাখতেছে।

নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো স্বেচ্ছাসেবীদের কাজ এই ধারণা তাদের মাঝে নাই। বরং এটা যে প্রতিটা মানুষের দায়িত্ব সেটা অনেকেই পালন করতেছে। কেবল নিজের স্বার্থরক্ষাই মানব জীবনের লক্ষ্য নয়। পরস্পর পরস্পরের কল্যাণে ও উপকারের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে মানব সভ্যতা।

 

লেখক: শিক্ষার্থী
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

শেয়ার করুন




এই বিভাগের আরও খবর










আপনার জন্য নির্বাচিত




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
ঢাকা,বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বঙ্গ নিউজ ২৪.কম