।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
ভারতের কারাগারে আটক কুড়িগ্রামের সাত বাংলাদেশি জেলের পরিবারগুলো চরম দুঃসময় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। প্রিয়জনদের মুক্তির আশায় প্রতিদিন প্রহর গুনলেও, বাস্তবতায় তারা ডুবে আছেন দুশ্চিন্তা, অভাব-অনটন আর অসহায়তার করুণ চিত্রে।
চিলমারী উপজেলার অন্তত পাঁচটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেকে পড়েছেন চরম অর্থসংকটে। কেউ নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছেন, কেউ সন্তানদের স্কুলের বেতন দিতে পারছেন না, আবার কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
আটকদের মধ্যে একজন আমির আলীর স্ত্রী বলেন, “তিনটা সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। ছোট ছেলের পা ভেঙেছে, চিকিৎসা করাতে পারছি না। দুই ছেলের স্কুলের বেতন দিতে না পারায় তারা পড়াশোনায় পিছিয়ে যাচ্ছে।”
আরেক জেলে মীর জাহানের স্ত্রী বলেন, “ঘরে খাবার নেই। মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে চাইতেও এখন লজ্জা লাগে। বড় ছেলে প্রাইভেট পড়ে, কিন্তু বেতন দিতে না পারায় স্যার আর পড়াতে চান না।”
অনুরূপ অভিযোগ এসেছে অন্যান্য পরিবারের দিক থেকেও। তারা জানান, শুরুর দিকে ধারদেনা করে দুইজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা জামিন করাতে ব্যর্থ হন। পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে পরিবারগুলো প্রতারিত হওয়ার বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও জানান।
সম্প্রতি ভারতের আদালতে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গুয়াহাটিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই মামলার শুনানি শুরু হবে এবং এরপরই ঘোষণা আসবে চূড়ান্ত রায়।
ভারতের একজন আইনজীবীর ভাষ্য, এই পর্যায়ে দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করা গেলে দণ্ড কমানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রনিযুক্ত (সরকারি) আইনজীবীদের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া চালালে দীর্ঘমেয়াদি সাজার ঝুঁকি থেকেই যায়। অথচ আর্থিক অক্ষমতার কারণে পরিবারগুলো নতুন করে আর কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারছে না।
পরিবারগুলোর সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গুয়াহাটিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দুর্দশার কথা জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনো আশাব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
আটকদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে— আটক জেলেদের জন্য দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ, জরুরি কনস্যুলার সহায়তা এবং মানবিক বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
