নিউজ ডেস্ক:
ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ও সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান এবং মহাসচিব মুফতি মো. রফিকুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশ একটি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও শান্তিপ্রিয় দেশ। যুগ যুগ ধরে এই দেশের মানুষ আল্লাহর অলিদের সোহবত ও ইসলামের আদর্শ, তাহজিব-তমদ্দুন তথা সুন্নাহর পথে জীবন পরিচালনায় অভ্যস্ত। এই আধ্যাত্মিক ও নৈতিক ঐতিহ্য কখনও বিচ্যুত হয়নি। বরং বাংলাদেশে ইসলামী চেতনার ভিত্তিতেই গণমানুষের জীবন গড়ে উঠেছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, এ দেশের জনগণ আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য ইতিহাসজুড়ে সংগ্রাম করে এসেছে। কিন্তু এটি কিছু নাস্তিক্যবাদী ও ধর্মবিরোধী গোষ্ঠীর কাছে গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বাংলাদেশের ইসলামী সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিদেশি প্রভুদের হয়ে কাজ করা কিছু কুলাঙ্গার দেশের বাইরে থেকে অপসংস্কৃতি আমদানি করে ইসলামপ্রিয় জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপন ও সেখানে আবাসিক প্রতিনিধির দায়িত্বে একজন সমকামীর নিয়োগ দেওয়া বাংলাদেশের ইসলামী পরিবেশ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত। নেতৃদ্বয় বলেন, এটি মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র। পৃথিবীর বহু দেশে—যেমন ভারত, ইসরায়েল ও মিয়ানমার—চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও সেখানে জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস স্থাপন করতে পারেনি। অথচ বাংলাদেশের মতো একটি শান্তিপূর্ণ ইসলামী দেশে এমন অফিস খোলার প্রয়াস সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইসলামের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের চক্রান্ত প্রতিরোধে অতীতে যেমন রাজপথে নেমেছে, ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে দ্বিধা করবে না। জাতিসংঘের অফিসের নামে পশ্চিমা সমাজের সমকামীতা, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, নগ্নতা ও চারিত্রিক স্খলনের মতো বেলেল্লাপনার বিস্তার ঘটানোই তাদের আসল লক্ষ্য।
তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জনসম্মুখে পরিষ্কার অবস্থান ঘোষণার আহ্বান জানান। অন্যথায়, দেশের জনগণ তা প্রতিরোধে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
